পোস্ট

অবচেতন মন

# অবচেতন মন
# সুদীপ্ত চক্র
ব্ল্যাকহোলে বিলীন হওয়ার আগে
জেগে উঠতে চাই চেতনার বিষ্ফোরণে।
প্রজাপতির ক্লান্ত ডানায় লেগে থাকুক
একটুকরো হিমশীতল ভোর,
কম্বলের নিশ্চিন্ত ওম ছেড়ে
কুয়াশা কে বা গায়ে মাখতে চায়!
স্বপ্নেরা জব্বর স্বপ্ন নিয়ে আসে,
রাতের করিডোরে সরীসৃপ হয় মন।
চেতন-অবচেতনের মাঝে প্রেয়সীর বাস,
নিষ্ঠুর পৌরুষে দেবত্ব খোঁজে আজও।
অবচেতনে তবুও সকাল আসে
বাজারের থলিতে ফরমায়েশের ভিড়ে।
চালশের কাঁচে ঢাকা চোখে
নিজের হারিয়ে যাওয়া চৈতন্য খুঁজি।
ব্যস্ত রবিবারের ভিড় ঠেলে
রহমতের দোকান থেকে মাংস,
সুধীরের রসগোল্লা, পিটারের পেস্ট্রি
নিয়ে ঘরে ফেরার পথ ধরি।
বাজারের থলিতে অচেতনে ঘুমায় চেতনা,
শুধু জেগে থাকে একটুকরো ভারতবর্ষ।

ভালোই আছি

মারকাটারি কাটছে জীবন
ভালোই আছি বেশ।
মাসকাবারি টানাটানি,
বুকের নিচে টনটনানি,
তবুও আছি বেশ।
মাস-পয়লার রাজা-উজির,
দুদিন পরেই পথের ফকির,
কাটছে জীবন বেশ।
ঝুলিয়ে মুখে মেকি হাসি,
বুকের মাঝে দুঃখ পুষি,
এইতো আছি বেশ।
একটুখানি ঝগড়াঝাটি,
টকাস্ করে টাগরা চাটি,
স্বাদখানি তার বেশ।
ইস্পাত নয় মিছরি ছুরি,
কাটছে জীবন আড়াআড়ি,
চলছে সময় বেশ।
টক-মিষ্টি রস টুপটুপ
খাচ্ছি জীবন বেশ।

ক্ষয়

ক্ষয়ে যাচ্ছে সময়
ক্ষয়িষ্ণু এ মন,
সময়ের পিছুডাকে
মনের ঊর্দ্ধে ওঠা হলো না।
হাজার আলোর ভীড়ে
প্রদীপের খবর কে রাখে!
নিজেকে নিঃস্ব করে
কাজল হতে কে বা চায়!
সবুজ ঘাসে নামে হলুদ বৃষ্টি,
ছাতিমতলায় শুধু বারুদের গন্ধ,
পলকহীন বুভুক্ষু চোখ, পোড়া ধুলায়
পায়রা আঁকে শৈশব। অতঃপর।
মনের প্রশান্তিতে ছুঁড়ে দিই
বিস্কুট, ক্ষুধার্ত চোখে।
হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকা শৈশব
শিখে যায় চকোলেট লুকোতে।

অ্যাই মেয়েটা

#অ্যাই মেয়েটা
# সুদীপ্ত চক্র
অ্যাই মেয়েটা দুগ্গা হবি ?
দুচোখে তোর কাজল
মুছে, ত্রিনয়নে আগুন পর,
শোন মেয়ে তুই দূর্গা হ।

অ্যাই মেয়ে তুই উমা হবি?
কাশফুল নয় ভিড়ের মাঝে
আঙ্গুলগুলো মুচড়ে ধর,
শোন মেয়ে তুই উমাই হ।

অ্যাই মেয়ে তুই করালী হবি?
রাত-বিরেতে তোর দিকেতে
শ্বাপদ যখন বাড়ায় হাত,
সোহাগ ভরে গায়ের জোরে
তার টুঁটি কামড়ে ধর,
শোন মেয়ে তুই করালী হ।

অ্যাই মেয়ে তুই চণ্ডী হবি!
সব অশুভর মুণ্ডু কেটে
গলায় পড়ে, নবজীবনের
ফুল ফোটা,
শোন মেয়ে তুই চণ্ডী হ।

ও মেয়ে তুই যা খুশি হ
নিজের মতো,
শক্তিটুকু জাগিয়ে রাখিস
নিজের ভিতর,
সব অনাচার দুরহাটা তুই
আপন বলে,
শোন মেয়ে ওই আদ্যাশক্তি
তোর ভিতর,
ও মেয়ে তুই দূর্গা হ,
ও মেয়ে তুই চণ্ডী হ।

যারা লেখে

দীপাঞ্জন যখন বাস থেকে পাড়ার মোড়ে এসে নামল তখন সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত হয়ে এসেছে। ক্লান্ত পা দুটো টেনে টেনে বাড়ির দিকের রাস্তা ধরল। বাড়িতে যাওয়ার ব্যাস্ততা নেই তার। বাড়ি ফেরা মানেই সেই নিত্য দিনের অশান্তি। অবশ্য দিশাকে দোষ দিতে পারে না। প্রত্যেকের মনেই কিছু ইচ্ছা কিছু চাহিদা থাকেই। দীপাঞ্জন জানে সে সেই চাহিদা পুরনে অক্ষম। দীপাঞ্জন আর বিদিশা দুজনে দুজনকে ভালবেসেই সংসার পেতে ছিল। ভালবেসেই তারা একে অপরকে দীপ আর দিশা নামেই ডাকতো। আজও সেই নামেই তারা সম্বোধন করে কিন্তু আগের সেই মাদকতা এই নামে আর খুঁজে পায় না তারা। আজ সংসারের চাপে এই নাম দুটি শুধুই অভ্যেস হয়ে গেছে। বরাবরই একটু রাত করে ঘুমানো অভ্যেস দীপের। বিয়ের প্রথম প্রথম দিশা অতটা বুঝতে পারেনি। তখন দুজন দুজনকে নিয়ে মাতোয়ারা। প্রেমের আবেশ যখন অভ্যেসে পরিনত হয় তখন দিশা দেখে দীপ প্রায় মাঝরাত করে বিছানায় আসে। প্রথমে ভেবেছিল দীপ হয়তো অফিসের কোন কাজে ব্যাস্ত থাকে। একদিন বইয়ের তাক গুছাতে গিয়ে নজরে পরে নীল রঙের একটা বাঁধানো খাতা। কৌতুহল বসত খাতা খুলে বসেছিল দিশা। পাতায় পাতায় ভরা স্বপ্ন ছবি। দীপের সৃষ্টি। ছোট ছোট কবিতা আর গল্পে ভরা।…

বাবা তোমাকে

ছবি
কালের স্রোতে সময় ভাসে,
সময় স্রোতে দিন,
দিনের স্রোতে ভাসে জীবন,
জীবন স্রোতে ঋণ।

হয়নি আঁকা তোমার ছবি,
কবিতা লেখাও হয়নি,
কালি-কলম হঠাৎ যেন
হয়েছিল অভিমানী।

আজকে আবার ফিরতি পথে,
কালির আঁচড়, স্মৃতির ঝাঁপি,
কালের স্রোতে নৌকা ভাসাই,
সঙ্গে নিয়ে মনখারাপি।

অন্ত যাপন

জানলা দিয়ে আকাশ দেখিনা আর,
আর খুঁজিনা সাদা মেঘের ভেলা,
দিনযাপনের সময় গিয়েছে চলে,
সময় এখন স্বপ্ন শেষের বেলা।

রাত নিঃঝুম নিকষ অন্ধকার,
রাত তারারা চুম্বনেতে রত,
একটি তারা পড়বে খসে আজ,
একটি তারার সময় হয়েছে গত।

হাজার বছর এই পৃথিবীর পথে
কেউ হেঁটে যায়, বিরাম হীন চলা !
এক জীবনে আমার বনলতা,
এক জীবনে সাঙ্গ সারা খেলা।

এই জীবনের অপূর্ণ সাধ যত,
থাকনা তোলা আরএক জনম তরে,
পুরিয়ে নেব তোমার সাথে আমি,
একটি বা হাজার জনম পরে।

যদি এমন আসে কোন ভোর,
চোখে চোখ হারিয়ে যাবে কথা,
উন্মুক্ত আকাশ নীলের নীচে,
আমি এবং আমার বনলতা।