পোস্টগুলি

অবচেতন মন

# অবচেতন মন # সুদীপ্ত চক্র ব্ল্যাকহোলে বিলীন হওয়ার আগে জেগে উঠতে চাই চেতনার বিষ্ফোরণে। প্রজাপতির ক্লান্ত ডানায় লেগে থাকুক একটুকরো হিমশীতল ভোর, কম্বলের নিশ্চিন্ত ওম ছেড়ে কুয়াশা কে বা গায়ে মাখতে চায়! স্বপ্নেরা জব্বর স্বপ্ন নিয়ে আসে, রাতের করিডোরে সরীসৃপ হয় মন। চেতন-অবচেতনের মাঝে প্রেয়সীর বাস, নিষ্ঠুর পৌরুষে দেবত্ব খোঁজে আজও। অবচেতনে তবুও সকাল আসে বাজারের থলিতে ফরমায়েশের ভিড়ে। চালশের কাঁচে ঢাকা চোখে নিজের হারিয়ে যাওয়া চৈতন্য খুঁজি। ব্যস্ত রবিবারের ভিড় ঠেলে রহমতের দোকান থেকে মাংস, সুধীরের রসগোল্লা, পিটারের পেস্ট্রি নিয়ে ঘরে ফেরার পথ ধরি। বাজারের থলিতে অচেতনে ঘুমায় চেতনা, শুধু জেগে থাকে একটুকরো ভারতবর্ষ।

ক্ষয়

ক্ষয়ে যাচ্ছে সময় ক্ষয়িষ্ণু এ মন, সময়ের পিছুডাকে মনের ঊর্দ্ধে ওঠা হলো না। হাজার আলোর ভীড়ে প্রদীপের খবর কে রাখে! নিজেকে নিঃস্ব করে কাজল হতে কে বা চায়! সবুজ ঘাসে নামে হলুদ বৃষ্টি, ছাতিমতলায় শুধু বারুদের গন্ধ, পলকহীন বুভুক্ষু চোখ, পোড়া ধুলায় পায়রা আঁকে শৈশব। অতঃপর। মনের প্রশান্তিতে ছুঁড়ে দিই বিস্কুট, ক্ষুধার্ত চোখে। হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকা শৈশব শিখে যায় চকোলেট লুকোতে।

অ্যাই মেয়েটা

#অ্যাই মেয়েটা # সুদীপ্ত চক্র অ্যাই মেয়েটা দুগ্গা হবি ? দুচোখে তোর কাজল মুছে, ত্রিনয়নে আগুন পর, শোন মেয়ে তুই দূর্গা হ। অ্যাই মেয়ে তুই উমা হবি? কাশফুল নয় ভিড়ের মাঝে আঙ্গুলগুলো মুচড়ে ধর, শোন মেয়ে তুই উমাই হ। অ্যাই মেয়ে তুই করালী হবি? রাত-বিরেতে তোর দিকেতে শ্বাপদ যখন বাড়ায় হাত, সোহাগ ভরে গায়ের জোরে তার টুঁটি কামড়ে ধর, শোন মেয়ে তুই করালী হ। অ্যাই মেয়ে তুই চণ্ডী হবি! সব অশুভর মুণ্ডু কেটে গলায় পড়ে, নবজীবনের ফুল ফোটা, শোন মেয়ে তুই চণ্ডী হ। ও মেয়ে তুই যা খুশি হ নিজের মতো, শক্তিটুকু জাগিয়ে রাখিস নিজের ভিতর, সব অনাচার দুরহাটা তুই আপন বলে, শোন মেয়ে ওই আদ্যাশক্তি তোর ভিতর, ও মেয়ে তুই দূর্গা হ, ও মেয়ে তুই চণ্ডী হ।

যারা লেখে

দীপাঞ্জন যখন বাস থেকে পাড়ার মোড়ে এসে নামল তখন সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত হয়ে এসেছে। ক্লান্ত পা দুটো টেনে টেনে বাড়ির দিকের রাস্তা ধরল। বাড়িতে যাওয়ার ব্যাস্ততা নেই তার। বাড়ি ফেরা মানেই সেই নিত্য দিনের অশান্তি। অবশ্য দিশাকে দোষ দিতে পারে না। প্রত্যেকের মনেই কিছু ইচ্ছা কিছু চাহিদা থাকেই। দীপাঞ্জন জানে সে সেই চাহিদা পুরনে অক্ষম। দীপাঞ্জন আর বিদিশা দুজনে দুজনকে ভালবেসেই সংসার পেতে ছিল। ভালবেসেই তারা একে অপরকে দীপ আর দিশা নামেই ডাকতো। আজও সেই নামেই তারা সম্বোধন করে কিন্তু আগের সেই মাদকতা এই নামে আর খুঁজে পায় না তারা। আজ সংসারের চাপে এই নাম দুটি শুধুই অভ্যেস হয়ে গেছে। বরাবরই একটু রাত ...

বাবা তোমাকে

ছবি
কালের স্রোতে সময় ভাসে, সময় স্রোতে দিন, দিনের স্রোতে ভাসে জীবন, জীবন স্রোতে ঋণ। হয়নি আঁকা তোমার ছবি, কবিতা লেখাও হয়নি, কালি-কলম হঠাৎ যেন হয়েছিল অভিমানী। আজকে আবার ফিরতি পথে, কালির আঁচড়, স্মৃতির ঝাঁপি, কালের স্রোতে নৌকা ভাসাই, সঙ্গে নিয়ে মনখারাপি।

অন্ত যাপন

জানলা দিয়ে আকাশ দেখিনা আর, আর খুঁজিনা সাদা মেঘের ভেলা, দিনযাপনের সময় গিয়েছে চলে, সময় এখন স্বপ্ন শেষের বেলা। রাত নিঃঝুম নিকষ অন্ধকার, রাত তারারা চুম্বনেতে রত, একটি তারা পড়বে খসে আজ, একটি তারার সময় হয়েছে গত। হাজার বছর এই পৃথিবীর পথে কেউ হেঁটে যায়, বিরাম হীন চলা ! এক জীবনে আমার বনলতা, এক জীবনে সাঙ্গ সারা খেলা। এই জীবনের অপূর্ণ সাধ যত, থাকনা তোলা আরএক জনম তরে, পুরিয়ে নেব তোমার সাথে আমি, একটি বা হাজার জনম পরে। যদি এমন আসে কোন ভোর, চোখে চোখ হারিয়ে যাবে কথা, উন্মুক্ত আকাশ নীলের নীচে, আমি এবং আমার বনলতা।

কথাছিল

কথাছিল সে আসবে আবার, চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেশ তখন হবে সারা। তারপর সময় গেছে সময় স্রোতে, প্রতিশ্রুতিরা এভাবেই শব্দ হারায়, অথবা গরমিল ছিল সময়ের খাতায়। বলেছিল দেখা হবে কাল বিজ্ঞাপনে, চিরকুটে বা দেওয়াল জুড়ে, তখন ভাবব তোমায় নিয়ে। কাল থেকে কালান্তর, ভাবনারা আজ নিরুদেশে। তারপর ? শুধু অপেক্ষা, দেওয়াল জুড়ে পরত পরে চিরকুট অথবা বিজ্ঞাপনের, দাদের মলম বা ঋতুবন্ধের।

অন্বেষণ

প্রেমের কাছে সুখ খুঁজলাম, দুঃখ এসে দিয়েগেল ভালোবাসা। ভালোবাসা খুঁজলাম পলাশ ফুলে, শিমুল এসে বসন্ত দিয়েগেল। সব দুঃখ বন্ধক দিলাম দিগন্তের কাছে, এখন দিগন্তের দিকে চেয়ে বিষন্নতা খুঁজি। বিষন্নতা, আজ কি তোমার ছুটি ! ভাবছি, বিষন্নতায় সুখ খুঁজতে মনকে দেব ছুটি।

উপলব্ধি

মনে রাখতে চাইনি তোমায়, কি হবে এত ছন্দ-সুরের ভার বয়ে! কৈশোরের উষ্ণ রক্তের ধারায়, ভিজিয়ে দিতে চেয়েছিলাম ছন্দবদ্ধ শব্দ রাশি। ধারালো ছুড়ির আঘাতে ফালাফালা করতে চেয়েছিলাম বইয়ের পাতার কালো শব্দগুলি। সহসা কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ, কি যেন আবেশে জড়িয়ে ধরলে তুমি, জীবনের প্রতি মুহুর্ত সাজালে ছন্দময় জীবনের গানে। নিশ্চুপ প্রেমে তোমার শব্দরাশির খেলা, জীবনের একাকিত্বে তোমার সুরমূর্ছনার সহচর্য্য, না পাওয়ার বেদনায় তোমার সহানুভুতির সুর, জীবনের অসফলতায় তোমার শব্দরাশির যষ্ঠি, নতুন করে চেনালো তোমায়। তুমি বললে আছি, আমি আছি। সুরের মুর্ছনায় আবিষ্ট হল মন, ছন্দের মাধুর্য্যে শীতল হল প্রাণ। কালবৈশাখীর দমকা হাওয়ায় শুনি তোমার সুর, রিমঝিম বৃষ্টিতে শুনি তোমার ছন্দ। ২৫শে বৈশাখ একটা তারিখ মাত্র, জীবনের গোধুলিবেলায় প্রতি মুহুর্ত...

স্বাদ

চকোলেট বিস্বাদ লাগে তোমায় ছাড়া, কুইনাইনও তোমার ছোঁয়ায় মিষ্টি। অবস্থার পরিবর্তনে স্বাদ বদলায়, বদলায় জীবনের মানে, অমৃতের স্বাদ শুধু ভগবান জানে।

আলাপন

#হাসতে_হাসতে       আলাপন      সুদীপ্ত চক্র গাধার পিঠে সাওয়ার ভুতো যাবে অনেক দূর, পাগরী মাথায়, নাগড়া পায়ে, ভাঁজছে কি এক সুর। চেঁচান কেন ? বলল গাধা, নেই কি গলায় মধু ! প্রাণ ছাড়খার গানের গুঁতোয়, সুর নেইকো শুধু। গানের মর্ম তুই কি বুঝিস ! বললে রেগে ভুতো, সব কিছুতেই খুঁত খুঁজিস একটু পেলেই ছুতো। তিন তিনটে পাশ দিয়েছি, জানিস আমার এলেম ? তোদের মতো গাধার জন্য সব বিলিয়ে দিলেম। সুখ দুঃখ সব দিয়েছি তোদের জন্য ছেড়ে, বলল গাধা, তাইতো ঘোরেন মোদের পিঠে চড়ে। চুপ বেয়াদপ, হাড়গিলে সব, জানিস গানের মানে ? বললে গাধা, হুজুর এসব সাওয়ারী গাধাই জানে।

চিঠি

লাল লাঠি আর ক্যাম্বিস বল , চল ছেলেবেলাটাকে ছুঁই , আজ জীবন প্রান্তে গোধুলিবেলায় কেমন আছিস তুই? হাসিমুখে শুধু ভালো আছি বলে ভালো থাকা সে কি যায় ! চল নদীর চরে বৃষ্টিতে ভিজে, মনের আরাম পাই। চল ডাংগুলি নিয়ে রাস্তায় নামি, সময় যে বয়ে যায়, কবাডির কোর্টে হুটপুটি করে স্মৃতিটুকু ছুঁয়ে যাই। বাড়ছে সময় কমছে জীবন, সাপ লুডো খেলে কাল, ঘরকাটা সেই চকোলেট বার ভাগ করে খাই চল। আয় আগের মত ঝগড়া করি, দিন যে চলে যায়, ভাবার সময় পেরিয়ে গেছে, আয়, বন্ধু আয় - বন্ধু আয়।

বৃষ্টি এবং .......

রাত ভোর  বৃষ্টি, ভাঙা মন ভিজে যায়, ঘুম চোখে স্বপ্নেরা পিছুটান রেখে যায়। স্বপ্নেরা সিঁদ কাটে লম্বা বা চৌকো, বৃষ্টির জলে ভাসে কাগজের নৌকো। নৌকোর কাগজে কবিতারা ছিল কি ! নাকি শুধু মন ছিল ? ছিল প্রেম জোনাকি ! চিকচিক করে সব জোনাকির আলোতে, বৃষ্টির ফোঁটা গুনি ভাষা ভেজা রাতেতে। ভাষা ভেজা বৃষ্টিতে শব্দের ক্ষয় জানি, রাত ভেজা বৃষ্টিতে, কবিতারা অভিমানী।

বৃষ্টি নামুক

অভিমানের মেঘ জমেছে তোমার মনে, দশক ধরে, চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেশ সেই মেঘেতেই গুমড়ে মরে। প্রখর তাপে পুড়ছে মাটি, পুড়ছে এ-মন তার সাথে, বৃষ্টি বোধহয় নামবে এবার, চাতক পাখি অপেক্ষাতে। বৃষ্টি হলেই বাঁচবে জীবন, টিপ টাপ টুপ জলের সুরে, মেঘ যদি হয় মনের কোণে, বৃষ্টি নামুক হৃদয় জুড়ে।

দুঃখ বিলাস

আজ দিন দুয়েক হল একটা ইংরাজী শব্দের বাংলা অর্থ নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছি। অভিধান ঘেঁটে অর্থ পেলেও বাংলা শব্দটা ঠিক মনঃপুত হল না। আসলে কি হয়েছে জানেন, কিছুদিন যাবৎ মনটা ভালো যাচ্ছে না। সবকিছুতেই একটা দুঃখ দুঃখ ভাব। তা সবার হিতপোদেশ কানে নিয়ে গেলাম এক মনের ডাক্তারের কাছে। অজস্র প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে, আমার মস্তিষ্কের তেরটা বাজিয়ে উনি মুচকি হেসে প্রসন্ন বদনে ঘোষনা করলেন, এটা তেমন কিছু নয়। এসব এখন আকছার ঘটছে। আসলে আপনি ডিপ্রেশন-এ ভুগছেন। নগদ কড়কড়ে চারশো টাকা গুনে দিয়ে ওনার কাছ থেকে পালিয়ে বাঁচলাম। রাস্তার ধারের দোকানে মাটির ভাঁড়ে চা খেয়ে মাথাটা বেশ হালকা লাগল। সাথে সাথে মনটা কেমন দুঃখ দুঃখ করে উঠল । ইস্ একেতো চারশো টাকা গেল তার উপর এই পাঁচ টাকার চা।  আজকাল এই হয়েছে এক জালা, একটু মন খারাপ হলেই সবাই ফলাও করে বলবে, ডিপ্রেশনে ভুগছি। যেন মাথায় আভিজাত্যের টোপর উঠল। বাড়ি ফিরতেই গিন্নীর জিজ্ঞাসা - কি বলল ডাক্তার? বললাম ডিপ্রেশন । গিন্নীর চোখ দুটো একবার কপালে উঠল তারপর ইতিউতি খুঁজে বেড়াতে লাগল নিজের মুঠোফোন। মুঠোফোন হাতের নাগালে পেতেই গিন্নী চলেগেল রান্নাঘরে খবর সম্প্রচারের জন্...

সঙ্গম

প্রেম আজও আছে বেঁচে, নয় শুধু পথ চলা অভ্যাসে, অভাব পলিতে ঢেকেছে আবেগ যত, বালি ঝড় ,আজ শুধু নিশ্বাসে, তোমার নদী শান্ত হয় জানি, আমার দেহের নোনা জলে মিশে।   

অপরাজিতা

- এত ছটপট করিস কেন অপা ? একটু ধৈর্য্য ধরে বসতে পারিসনা ? সবসময় এত অধৈর্য হলে চলে !   - কি করব মা , অঙ্কটা যে কিছুতেই মেলাতে পারছি না ।   - ঠিক মিলবে । চেষ্টা কর ঠিক হবে ।   - কি করে হবে ? দিদিমনি যেভাবে বলেছেন সেভাবেই তো করলাম , তবু হচ্ছে না ।   - অন্য ভাবে চেষ্টা করে দেখ ।   - অন্যভাবে মানে ?   - অন্যভাবে মানে অন্যভাবে । আরে ইংরাজীতে ওই এক্সপেরিমেন্ট না কি যেন বলে তাই আর কি ।   - অঙ্কে আবার এক্সপেরিমেন্ট হয় না কি ?   - হয় রে হয় , জীবনের সবকিছুতেই হয় । কখনও সফল হয় কখনও হয় না । তা বলে ভেঙে পড়লে চলবে না , সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে ।   অপা মায়ের কথা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না । মা এমন ভাবে বলে যে মনেহয় সব বুঝে ফেললাম , কিন্তু পরক্ষনেই মনেহয় কে জানে ঠিক বুঝলাম তো !   মা একদিন কথায় কথায় বলেছিল তাড়াতাড়ি বিয়ে হওয়ার জন্য মায়ের লেখাপড়ার আশা পূর্ণ হয় নি । তাহলে মা এত শক্ত শক্ত কথা জানলো কি করে ! কে জানে , ম...